Header Ads

Header ADS

ভিটামিন ট্যাবলেট নয়, প্রতিদিন খান একটি আমলকি—দেখুন কী পরিবর্তন আসে শরীরে

 


আমলকি — নামটা শুনলেই মনে আসে এক টক-মিষ্টি ফলের কথা, কিন্তু জানেন কি? এই ছোট্ট ফলটিই আমাদের দেহের জন্য এক আশ্চর্য ভেষজ! আয়ুর্বেদে একে বলা হয় “অমৃত ফল”, কারণ এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই, বরং রয়েছে অসাধারণ সব উপকার। প্রতিদিন এক গাদা ভিটামিন ট্যাবলেট খাওয়ার বদলে যদি খান একটি আমলকি, তবে প্রকৃতিই আপনাকে দেবে তার অমূল্য উপহার। চাইলে খেতে পারেন কাঁচা, আচার করে, মোরব্বা বানিয়ে কিংবা পাউডার হিসেবে রান্নায় ব্যবহার করে—সবভাবেই এটি কার্যকর। আসুন, জেনে নেই প্রতিদিন একটি আমলকি খাওয়ার ২০টি দারুণ উপকারিতা।

১) আমলকি চুলের জন্য প্রাকৃতিক টনিক হিসেবে কাজ করে। এটি চুলের গোড়া শক্ত করে, চুল পড়া রোধ করে এবং নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে।

২) এটি খুশকি দূর করে ও অকালপক্ক চুল প্রতিরোধে সহায়তা করে, ফলে চুল হয় আরও মজবুত ও উজ্জ্বল।

৩) আমলকির রস কোষ্ঠকাঠিন্য ও পাইলস কমাতে সাহায্য করে। পাশাপাশি এটি পেটের গোলযোগ ও বদহজম দূর করে।

৪) এক গ্লাস দুধ বা পানিতে আমলকি গুঁড়ো ও সামান্য চিনি মিশিয়ে দিনে দুইবার খেলে অম্লতা বা অ্যাসিডিটি কমে।

৫) আধা চূর্ণ শুকনো আমলকি এক গ্লাস পানিতে ভিজিয়ে রেখে খেলে হজমের সমস্যা দূর হয়। খাবারের সঙ্গে আমলকির আচারও হজমে সহায়তা করে।

৬) প্রতিদিন সকালে আমলকির রসের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খেলে ত্বকের কালচে ভাব কমে, ত্বক হয় উজ্জ্বল ও টানটান।

৭) আমলকির রস চোখের দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে এবং চোখের প্রদাহ, চুলকানি বা পানি পড়া সমস্যায় উপকার দেয়।

৮) এতে থাকা ফাইটো-কেমিক্যাল চোখের কোষের ক্ষয় রোধ করে এবং বার্ধক্যজনিত দৃষ্টি ঝাপসা হওয়ার ঝুঁকি কমায়।

৯) নিয়মিত আমলকি খেলে নিঃশ্বাসের দুর্গন্ধ দূর হয় এবং দাঁত থাকে মজবুত ও ঝকঝকে।

১০) আমলকির হালকা টক-তেতো স্বাদ রুচি বাড়ায়। খাবারের আগে আমলকি গুঁড়োর সঙ্গে সামান্য মধু ও মাখন মিশিয়ে খেলে খিদে বাড়ে।

১১) এটি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও মানসিক চাপ কমায়, ফলে শরীর ও মন দুটোই সতেজ থাকে।

১২) কফ, বমি, অনিদ্রা ও শরীরের ব্যথা-বেদনায় আমলকি কার্যকর প্রাকৃতিক ওষুধ।

১৩) ব্রঙ্কাইটিস ও অ্যাজমার মতো শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আমলকির রস উপকারী।

১৪) এটি শরীর ঠান্ডা রাখে, কর্মক্ষমতা বাড়ায় ও পেশীকে শক্তিশালী করে।

১৫) আমলকি হৃদযন্ত্র ও ফুসফুসকে শক্তিশালী করে, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। আচার বা মোরব্বা আকারে এটি হৃদয় ও মস্তিষ্কের দুর্বলতা দূর করে।

১৬) শরীরের অতিরিক্ত ফ্যাট ঝরাতে সাহায্য করে, ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকে।

১৭) এটি লোহিত রক্তকণিকা বাড়িয়ে রক্তশূন্যতা রোধ করে এবং দাঁত ও নখকে মজবুত রাখে।

১৮) আমলকির অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ফ্রি র‌্যাডিকাল দমন করে, যা বার্ধক্য ও কোষ ক্ষয়ের প্রধান কারণ।

১৯) এটি সর্দি-কাশি, পেটের সমস্যা ও রক্তস্বল্পতা দূর করে শরীরকে করে আরও সুস্থ ও প্রাণবন্ত।

২০) আমলকি রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে, ডায়াবেটিস প্রতিরোধে সহায়ক এবং কোলেস্টেরল কমিয়ে হৃদরোগের ঝুঁকি হ্রাস করে।

সংক্ষেপে, আমলকি শুধু একটি ফল নয়—এ যেন প্রকৃতির হাতে বানানো এক “মিরাকেল মেডিসিন”, যা শরীর, মন ও সৌন্দর্য—সবকিছুই রক্ষা করে একসাথে।

কোন মন্তব্য নেই

PLAINVIEW থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.