Header Ads

Header ADS

কতবেলের গুণাগুণ ও পুষ্টিগুণ | হজম, রক্তচাপ ও রোগপ্রতিরোধে কতবেলের উপকারিতা

 


নুন-ঝাল দিয়ে মাখানো টাটকা কতবেল—একবার খেলে ভুলতে পারবেন না! স্বাদে যেমন অতুলনীয়, তেমনি গন্ধেও মন ভরে যায়। কিন্তু শুধু স্বাদেই নয়, পুষ্টিগুণের দিক থেকেও কতবেল একেবারে অনন্য। হজমের সমস্যা? কোষ্ঠকাঠিন্য? রক্তস্বল্পতা? কতবেল আছে না! তাই তো প্রবাদ আছে—“কতবেল খেলে ওষুধের খরচ কমে।”

বাজারে এখন বিভিন্ন আকারের কতবেল দেখা যায়। বিশেষ করে নারী ও শিশুরা এই ফলটি বেশ পছন্দ করে। এর শক্ত খোলস ভেঙে ভেতরে পাওয়া যায় ধূসর রঙের আঠালো শাঁস আর ছোট ছোট সাদা বীজ। স্বাদে কখনও টক, কখনও মিষ্টি—তবে সব সময়ই হালকা সুগন্ধময়। পুষ্টিতে ভরপুর এই ফলটিতে রয়েছে প্রচুর ক্যালসিয়াম, সামান্য লৌহ, ভিটামিন বি১ এবং ভিটামিন সি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কতবেল কিন্তু অবহেলার ফল নয়। কাঁঠাল, পেয়ারা, লিচু, আমলকী কিংবা আনারসের চেয়েও এতে বেশি উপকারিতা আছে। নিয়মিত কতবেল খেলে কিডনি থাকে সুরক্ষিত, লিভার ও হৃদ্‌যন্ত্রও থাকে ভালো। এর মধ্যে থাকা ট্যানিন উপাদান দীর্ঘদিনের ডায়রিয়া, পেটব্যথা, এমনকি কলেরা ও পাইলসের প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে।

পুষ্টিবিদ আখতারুন্নাহার আলোর তথ্যমতে, প্রতি ১০০ গ্রাম কতবেলে পাওয়া যায়—
পানি ৮৫.৬ গ্রাম, খনিজ ২.২ গ্রাম, আমিষ ৩.৫ গ্রাম, শর্করা ৮.৬ গ্রাম, ক্যালসিয়াম ৫৯ মিলিগ্রাম এবং ভিটামিন সি ১৩ মিলিগ্রাম।

এতেই বোঝা যায়, কতবেল সত্যিই এক শক্তিশালী প্রাকৃতিক ওষুধ।

কতবেলের গুণাগুণ এক নজরে:

  • হৃদ্‌যন্ত্র ভালো রাখে

  • বদহজম ও কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে

  • শরীরের ক্ষত দ্রুত শুকাতে সাহায্য করে

  • অন্ত্রের কৃমি ধ্বংস করে

  • রক্ত পরিষ্কার করে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে

  • রক্তস্বল্পতা দূর করে ও শরীরে শক্তি জোগায়

  • শরীরের তাপমাত্রা ও স্নায়ুর শক্তি নিয়ন্ত্রণ করে

  • সর্দি-কাশিতেও অত্যন্ত কার্যকর

সারসংক্ষেপে বলা যায়—কতবেল শুধু এক মৌসুমি ফল নয়, বরং প্রকৃতির এক অমূল্য দান। নিয়মিত খান, সুস্থ থাকুন, আর শরীরকে দিন প্রাকৃতিক যত্নের ছোঁয়া। 

কোন মন্তব্য নেই

PLAINVIEW থেকে নেওয়া থিমের ছবিগুলি. Blogger দ্বারা পরিচালিত.